মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

খাবার বড়ি

কার্যকারিতাঃ

মিশ্র বড়ি সঠিকভাবে গ্রহণ করলে প্রায় ৯৯.৯ শতাংশ কার্যকরী।

খাবার বড়ির সুবিধাঃ

  • সকল বয়সী মহিলা জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি হিসাবে খাবার বড়ি ব্যবহার করতে পারেন।
  • এটি একটি অস্থায়ী পদ্ধতি, যে কোন সময় বড়ি ছেড়ে দিয়ে অন্য পদ্ধতি গ্রহণ করা যায় অথবা গর্ভধারণ করা যায়।
  • সঠিকভাবে বড়ি খেলে এটি অত্যন্ত কার্যকারী (শতকরা ৯৭-৯৯.৯ ভাগ)
  • মাসিক চক্রকে নিয়মিত করে।

অসুবিধা সমূহঃ

  • প্রতিদিন খেতে হয়
  • মাসিক স্রাব বন্ধ থাকতে পারে (Post Pill amenorrhaea)।
  • যোনিপথের পিচ্ছিলতা কমে যেতে পারে
  • বুকের দুধ কমে যেতে পারে
  • বিমর্ষতা দেখা দিতে পারে
  • জন্মনিয়ন্ত্রণের খাবার বড়ি ব্যবহারের প্রথম দিকে (বিশেষত ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে) ছোট খাট পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। যেমন-
  • স্তন স্পর্শ কালে ব্যথার অনুভুতি (Tenderness), বেদনা
    1. দুই মাসিকের মধ্যবর্তী সময়ে ফোঁটা ফোঁটা রক্তস্রাব
    2. বমি বমি ভাব
    3. মাথা ধরা
    4. মুখে ব্রণ
    5. ওজন বৃদ্ধি
  • যে সমস্ত মহিলার মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন (Myocardial Infarction MI)- এ আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বিদ্যমান, খাবার বড়ি তাদের ঝুঁকি আরো বাড়িয়ে দেয়।
  • যে সমস্ত মহিলার স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি আছে (যেমন ধুমপান/তামাক পাতা গ্রহণ, উচ্চ রক্তচাপ) খাবার বড়ি ব্যবহার তাদের ষ্ট্রোকের ঝুঁকি আরো বাড়ায়।
  • শিরার রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার (Venous Thromboembolism) সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই অতীতে বা বর্তমানে যাদের এই সমস্যা হয়েছে তারা এস্ট্রোজেন সমৃদ্ধ মিশ্র বড়ি খেতে পারবেন না।

 

খাবার বড়ি যাদের জন্য উপযুক্ত

যারা জন্মনিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকরী একটি অস্থায়ী পদ্ধতি নিতে চান।

  • যারা জন্মনিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকরী একটি অস্থায়ী পদ্ধতি নিতে চান।
  • মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তস্রাবের দরুন যারা রক্তস্বল্পতায় ভোগেন।
  • মাসিক চক্র যাদের অনিয়মিত
  • যে সব মা বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন তারা বাচ্চার বয়স ৬ মাস হবার পর জন্মনিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি হিসাবে মিশ্র খাবার বড়ি খেতে পারেন।
  • যেসব মা শিশুকে বুকের দুধ দিচ্ছেন না তাদের সন্তান প্রসবের ৪ সপ্তাহ পরে খাবার বড়ি শুরু করতে হবে।

খাবার বড়ি যাদের জন্য উপযুক্ত নয়

বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে প্রস্ত্ততকৃত খাবার বড়ি ব্যবহারে বিবেচ্য স্বাস্থ্যগত ও সামাজিক উপযুক্ততার নির্দেশিকা অনুযায়ী সে সব স্বাস্থ্যগত ও সামাজিক অবস্থায় খাবার বড়ি প্রদান করা যাবে না তা নিম্নে বর্ণনা করা হলো

  • প্রসবের ৬ মাসের মধ্যে যদি শিশুকে বুকের দুধ পান করান।
  • ধুমপায়ী নারী যাদের বয়স ৩৫ বছর ও তদুর্ধে, ধুমপান বলতে বুঝায়ঃ সিগারেট, বিড়ি ও তামাক সেবন বা তামাক জাতীয় দ্রব্যাদি সেবন (যেমন তামাক পাতা, গুল, জর্দ্দা ইত্যাদি)।
  • হৃদযন্ত্র ও রক্ত সংবহননালীর রোগ-ব্যাধির একাধিক ঝুঁকি বিদ্যমান ( যেমন বেশি বয়স, ধুমপান তামাকপাতা/জর্দা সেবন, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে উচ্চ মাত্রার চর্বি ইত্যাদি)।
  • উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস আছে (গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপ সহ) কিন্তু রক্তচাপ মাপা সম্ভব নয় এমন পরিস্থিতিতে।
  • উচ্চ রক্তচাপ যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রিত কিন্তু বয়স ৩৫ বছর বা তদুর্ধে।
  • উচ্চ রক্তচাপঃ সিস্টলিক ১৪০ অথবা ডায়াস্টলিক ৯০ মিমি পারদ বা তার বেশি হলে।
  • সার্ভিক্স এর ক্যান্সার।
  • রোগ অনির্ণীত স্তনের পিন্ড বা চাঁকা।
  • স্তনের ক্যান্সারঃ বর্তমানে আছে বা অতীতে ছিল।
  • অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস।
  • ডায়াবেটিস সংশ্লিষ্ট জটিলতা (নেফরোপ্যাথি, রেটিনোপ্যাথি/নিউরোপ্যাথি, রক্ত সংবহননালীর অন্যান্য ব্যাধি, অথবা ২০ বছর ও তার বেশি সময় ধরে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত)।
  • যক্ষার ঔষধ রিফামপিসিন, মৃগী বা খিচুনীর ঔষধ ব্যবহার কালীন।

খাবার বড়ির ব্যবহার বিধি

বাংলাদেশে প্রায় সকল মিশ্র খাবার বড়ি প্যাকেটে ২১টি সাদা গর্ভনিরোধক বড়ি (যার প্রধান উপাদান হরমোন) এবং ৭টি খয়েরি বড়ি (আয়রন বড়ি) থাকে। কোন কোন প্যাকেটে বা পাতায় শুধু মাত্র ২১টি জন্মনিরোধক বড়ি থাকে।

  • প্রথমবার খাওয়ার বড়ি শুরু করার সময় মাসিকের প্রথম দিন। অর্থ্যাৎ মাসিকের প্রথম দিন হতে সাদা বড়ি খাওয়া শুরু করতে হবে। (তবে মাসিক শুরু প্রথম দিন হতে ৫ম দিন পর্যন্ত যে কোন দিন থেকেও শুরু করা যাবে)।
  • যে মহিলা গর্ভপাত বা এমআর করেছেন বা যে মহিলার গর্ভপাত হয়েছে, তিনি যদি খাবার বড়ি জন্মনিয়ন্ত্রন পদ্ধতি হিসাবে পছন্দ করেন তবে গর্ভপাত /এম আর করার দিন থেকেই বা পরবর্তী ৫ম দিনের মধ্যে বড়ি খাওয়া শুরু করতে হবে।
  • সব সময় প্রথম বড়ি দিয়ে শুরু করতে হবে। বড়ির পাতার দিক নির্দেশনা (তীর চিহ্ন বা আঙ্গুল) অনুসরণ করে প্রথম বড়ি হতে ২১ দিনে ২১টি সাদা বড়ি খেতে হবে।
  • সাদা বড়ি শেষ হয়ে যাবার পর একইভাবে একটি করে ৭দিনে ৭টি খয়েরি বড়ি খেতে হবে। খয়েরী বড়ি খাওয়াকালীন সাধারণ মাসিক শুরু হয়। মাসিক আরম্ভ হলেও খয়েরী বড়ি খাওয়া বন্ধ করা যাবে না।
  • মাসিক হোক বা না হোক ৭টি খয়েরী বড়ি শেষ হওয়ার পরদিন থেকেই উপরের নিয়ম অনুযায়ী নতুন একটি পাতা থেকে আবার সাদা বড়ি খাওয়া শুরু করতে হবে।
  • খাবার বড়ি পানি দিয়ে গিলে ফেলতে হয়। প্রতিদিন একই সময়ে বড়ি খাওয়ার অভ্যাস করা ভাল। বড়ি খাওয়ার সব চেয়ে ভাল সময় হচ্ছে রাতের খাবারের পরে বা শোবার আগে।
  • যে সব প্যাকেটে ২১টি বড়ি থাকে সেক্ষেত্রে ২১টি বড়ি শেষ হয়ে গেলে মাসিকের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। মাসিক শুরু হলে মাসিকের ১ম দিন থেকে আবার নতুন প্যাকেটের বড়ি খাওয়া শুরু করতে হবে। যদি মাসিক না হয় এবং গ্রহীতা নিশ্চিত থাকেন যে কোন বড়ি খেতে ভুল হয়নি তবে, শেষ বড়ি খাবার ৭দিন পরে আবার বড়ি খেতে শুরু করবেন।

খাবার বড়ি প্রথম শুরু করার নিয়ম

  • মাসিকের প্রথম দিন থেকে: ডিম্বস্ফুটন সঠিকভাবে প্রতিরোধ করার জন্য মাসিকের প্রথম দিন থেকেই খাবার বড়ি গ্রহণ শুরু করা উচিত। যদি মাসিক শুরু হতে কোন কারণে দেরী হয় অথবা অন্যান্য অস্বাভাবিক উপসর্গ থাকে তবে খাবার বড়ি গ্রহণ শুরু করার আগে মহিলা গর্ভবতী কিনা সে সম্বন্ধে নিশ্চিত হবে।
  • যে কোন দিন থেকে: মহিলা যদি নিশ্চিত হন যে, তিনি গর্ভবতী নন তবে প্রয়োজনে যে কোন দিন থেকে মিশ্র বড়ি খাওয়া শুরু করতে পারেন। তবে পরবর্তী ৭ দিন তাকে কনডম ব্যবহার করতে হবে। এভাবে বড়ি খেতে শুরু করলে পরবর্তী মাসিকের সময় পিছিয়ে যাবে (যত দিন না বড়ি শেষ হয়)।

যদি বড়ি খাওয়া বাদ পড়ে তাহলে কি করণীয়

  • যদি ১ দিন বড়ি খেতে ভুলে যান তাহলে যখনই মনে পড়বে তখনই একটি বড়ি খাবেন এবং ঐ দিনের বড়িটি যথাসময়ে খাবেন।
  • যদি পর পর ২ দিন বড়ি খেতে ভুলে যান তাহরে মনে পড়ার সাথে সাথে ২টি বড়ি খাবেন এবং তার পরদিন নির্দিষ্ট সময়ে ২টি খাবেন। পাতার বাকি বড়ি নির্দিষ্ট সময়ে প্রতি দিন একটি করে খাবেন এবং পরবর্তী মাসিক না হওয়া পর্যন্ত কনডম ব্যবহার করবেন বা স্বামীর সাথে সহবাসে বিরত থাকবেন।
  • যদি পর পর ৩দিন বড়ি খেতে ভুলে যান তবে ঐ পাতা থেকে বড়ি আর খাবেন না এবং পরবর্তী মাসিকের আগ পর্যন্ত কনডম ব্যবহার করবেন বা সহবাস থেকে বিরত থাকবেন।

ছবি


সংযুক্তি




Share with :

Facebook Twitter